Sociedad Ecuatorial de Quito, upon the equatorial line north of Quito, República del Ecuador (latitude 0°)
1884 সালের অক্টোবর মাসে ওয়াশিংটনে সমবেত আন্তর্জাতিক দ্রাঘিমারেখা সম্মেলন এই সুপারিশ করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে গ্রিনিচের মধ্যরেখা-অতিক্রম পর্যবেক্ষণযন্ত্রের মধ্য দিয়া গমনকারী দ্রাঘিমারেখাকে দ্রাঘিমা গণনার প্রারম্ভিক রেখা করা হউক। সেই মাসের 22 তারিখে গৃহীত উহার চূড়ান্ত দলিলে একের বিপক্ষে বাইশ ভোট লিপিবদ্ধ আছে, ফ্রান্স ও ব্রাজিল ভোটদানে বিরত ছিল। এই সভার মতামত চাওয়া হয় নাই। অভিযোগের অপেক্ষা সংশোধনের অভিপ্রায়েই আমরা বর্তমান স্মারকলিপি পেশ করিতেছি।
আমাদের প্রতিপাদ্য এই যে দ্রাঘিমারেখা একটি প্রচলিত রীতি, আর নিরক্ষরেখা একটি বাস্তব সত্য। পৃথিবীর আবর্তন নিরক্ষরেখা নির্ধারণ করে, এবং যে-কোনো জাতির যে-কোনো পর্যবেক্ষকই তাহা নির্ণয় করিতে পারিবেন; দ্রাঘিমারেখা নির্ধারিত হয় মতৈক্যের দ্বারা, এবং সম্মেলন এখন দেখাইয়াছে যে ভোটের দ্বারাও মতৈক্য অর্জিত হইতে পারে। 1884 সালের এপ্রিল হইতে ডিসেম্বরের মধ্যে মঁসিয়ে কনিগের আদলে নির্মিত স্বরশলাকা, মিস্টার এডিসনের আদলে নির্মিত টিনপত্রযুক্ত ফোনোগ্রাফ এবং এক জোড়া টেলিফোন গ্রাহকযন্ত্র নিরক্ষীয় অক্ষবৃত্ত ও কিতোর দ্রাঘিমারেখা বরাবর বহন করিয়া যে পরীক্ষাসমূহ করা হইয়াছে, আমরা তাহার বিবরণ দিতেছি। অক্ষবৃত্ত বরাবর আটত্রিশ লিগ দূরত্বে স্বরের উচ্চতা, ধ্বনিবর্ণ কিংবা উচ্চারণের স্পষ্টতায় কোনো পরিবর্তন শনাক্ত করা যায় নাই। দ্রাঘিমারেখা বরাবর চার লিগের মধ্যেই পরিবর্তন শনাক্ত হয়, এবং তাহার পর প্রতি লিগে তাহা বৃদ্ধি পায়। আমাদের সিদ্ধান্ত এই যে দ্রাঘিমা ধ্বনিগতভাবে প্রভাবহীন, অক্ষাংশ তাহা নহে, এবং সঙ্গীতের পরিমাপের আদি রেখা বলিয়া গণ্য হইবার কোনো অধিকার পৃথিবীর যে রেখাটির আছে, তাহা কেবল সেই রেখা যাহার উপর এই সভা মিলিত হয়।
1. I. প্রারম্ভিক নিবেদন
একটি মূল দ্রাঘিমারেখা ও একটি সর্বজনীন দিবস নির্ধারণের উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সম্মেলনটি 1884 সালের 1 অক্টোবর হইতে 1 নভেম্বর পর্যন্ত ওয়াশিংটনে অধিবেশন করে। পঁচিশটি জাতির প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। 13 অক্টোবর ভোটের জন্য উত্থাপিত এবং 22 অক্টোবর গৃহীত চূড়ান্ত দলিলে লিপিবদ্ধ দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রতিনিধিত্বকারী সরকারসমূহের নিকট প্রস্তাব করা হয় যে গ্রিনিচ মানমন্দিরের মধ্যরেখা-অতিক্রম পর্যবেক্ষণযন্ত্রের কেন্দ্রের মধ্য দিয়া গমনকারী দ্রাঘিমারেখাকে দ্রাঘিমা গণনার প্রারম্ভিক রেখা হিসাবে গ্রহণ করা হউক। চূড়ান্ত দলিলে পক্ষে বাইশটি এবং বিপক্ষে একটি ভোট লিপিবদ্ধ আছে; সান ডোমিঙ্গোর প্রতিনিধিদল বিরোধিতা করে, এবং ফ্রান্স ও ব্রাজিলের প্রতিনিধিদল ভোটদান করিতে অস্বীকার করে।
ডাকযোগে সংবাদপ্রাপ্তির সুযোগ যতখানি অনুমতি দেয়, এই সভা ততখানি মনোযোগসহকারে কার্যবিবরণী অনুসরণ করিয়াছে; মুদ্রিত কার্যবিবরণী পানামা ও গুয়ায়াকিল হইয়া জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে কিতোয় পৌঁছায়। নাবিক, জ্যোতির্বিদ এবং রেলওয়ের সময়সূচি সংকলকদের পক্ষে এই ব্যবস্থার সুবিধা আমরা অস্বীকার করি না। আমরা এমন একটি প্রশ্নের প্রতি মনোনিবেশ করিতেছি যাহা সম্মেলন বিবেচনা করে নাই, এবং কোনো প্রতিনিধি উত্থাপন করিয়াছেন বলিয়াও প্রতীয়মান হয় না: মূল দ্রাঘিমারেখার নির্বাচন সঙ্গীতধ্বনির পুনরুৎপাদন ও উপলব্ধির উপর কোনো ফল উৎপন্ন করে কি না।
আমাদের অভিমত, তাহা কোনো ফল উৎপন্ন করে না। আমাদের আরও অভিমত এই যে কেন তাহা কোনো ফল উৎপন্ন করে না, সেই কারণটি শিক্ষাপ্রদ, এবং তাহা পৃথিবীর সেই একটিমাত্র রেখার নির্দেশ করে যাহার নির্বাচন ব্যক্তিগত মতের বিষয় নহে।
2. II. দ্রাঘিমার প্রকৃতি সম্বন্ধে
নিরক্ষরেখা নির্বাচন করা হয় না। তাহা আবর্তনের দুই মেরু হইতে সমদূরবর্তী মহাবৃত্ত, এবং কোনো সরকারের সহায়তা ব্যতিরেকেই পৃথিবীর আবর্তন তাহা নির্ধারণ করে। যে পর্যবেক্ষক কখনও গ্রিনিচ, প্যারিস কিংবা ওয়াশিংটনের নাম শুনেন নাই, এবং যাঁহার নিকট কেবল একটি ওলনসূত্র ও একটি নির্মল আকাশ আছে, তিনিও নক্ষত্রের সাহায্যে নিরক্ষরেখা নির্ণয় করিবেন এবং অন্য প্রত্যেক পর্যবেক্ষকের নির্ণীত সেই একই রেখায় উপনীত হইবেন। ইহা সেই রেখা যাহার উপর বিষুবের দিনগুলিতে সূর্য খমধ্যবিন্দুতে অবস্থান করে, এবং যাহার উপর সকল ঋতুতে দিন ও রাত্রি সমান হয়। ইহাই একমাত্র অক্ষবৃত্ত যাহা মহাবৃত্তও বটে।
কোনো দ্রাঘিমারেখারই এইরূপ কোনো বৈশিষ্ট্য নাই। প্রত্যেক দ্রাঘিমারেখা উভয় মেরুগামী একটি মহাবৃত্ত, এবং প্রত্যেক দ্রাঘিমারেখা অন্য প্রত্যেকটির সম্পূর্ণ সমান। পৃথিবী প্রত্যহ আপন অক্ষের উপর একবার আবর্তন করিয়া পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক দ্রাঘিমারেখা সূর্যের সম্মুখে উপস্থাপন করে, এবং কোনোটির প্রতি পক্ষপাত করে না। অতএব তাহাদের মধ্য হইতে একটিকে প্রথম বলিয়া নির্বাচন করা মতৈক্যের বিষয়, এবং সম্মেলন এখন বিজ্ঞানজগতের শিক্ষার নিমিত্ত প্রদর্শন করিয়াছে যে হস্তোত্তোলনের দ্বারা মতৈক্য অর্জিত হইতে পারে।
চুম্বকসূচও একই পার্থক্যের সত্যতা নিশ্চিত করে। বিদ্বান গাউস তাঁহার 1839 সালের পৃথিবীর চুম্বকত্বের সাধারণ তত্ত্বে দেখাইয়াছেন যে সূচের উপর ক্রিয়াশীল বল প্রায় সম্পূর্ণরূপে পৃথিবীর অভ্যন্তর হইতে উদ্ভূত হয়, এবং উক্ত বলের সাধারণ বিন্যাস এমন এক চুম্বকের বিন্যাসের ন্যায়, যাহার অক্ষ পৃথিবী যে অক্ষের চারিদিকে আবর্তিত হয়, সেই অক্ষের সহিত প্রায় বারো ডিগ্রি কোণ করে। সূচের দিকপাত এক দ্রাঘিমা হইতে অন্য দ্রাঘিমায় পরিবর্তিত হয়, কিন্তু ডক্টর হ্যালি সুদূর 1692 সালেই দেখাইয়াছেন যে এই পরিবর্তনের সমগ্র বিন্যাস বৎসর হইতে বৎসরে ক্রমাগত পশ্চিমদিকে ধীরে ধীরে সরিয়া যায়, এবং পরবর্তী বৎসরে এই সভা তাহার সহমত লিপিবদ্ধ করে। যে বিন্যাস দ্রাঘিমারেখাসমূহ অতিক্রম করিয়া স্থানান্তরিত হয়, তাহাকে তাহাদের কোনো একটির সহিত আবদ্ধ করা যায় না। সম্মেলন যদি চৌম্বক তাৎপর্যসম্পন্ন কোনো দ্রাঘিমারেখা সন্ধান করিত, তবে প্রতি ঋতুতে তাহা স্থানান্তর করিতে বাধ্য হইত।
3. III. অক্ষবৃত্ত ও দ্রাঘিমারেখা বরাবর পরীক্ষাসমূহ
প্রশ্নটির পরীক্ষাগত বিচার করিবার নিমিত্ত সভা প্যারিসের মঁসিয়ে রুডলফ কনিগের আদলে নির্মিত একগুচ্ছ স্বরশলাকা সংগ্রহ করে, যাহাদের প্রতি সেকেন্ডে 256, 384 ও 512টি পূর্ণ কম্পন হয়; তাহার সহিত মিস্টার এডিসনের আদলে নির্মিত টিনপত্র ও মুখনলযুক্ত একটি ফোনোগ্রাফ এবং মিস্টার বেলের আদলে নির্মিত এক জোড়া টেলিফোন গ্রাহকযন্ত্রও সংগ্রহ করে, যাহা উচ্চারণের স্পষ্টতা তুলনা করিবার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত তারের দ্বারা সংযুক্ত হইবে। সমগ্র পরীক্ষাকালে প্রতি সেকেন্ডে 256 কম্পনসম্পন্ন একটি মান স্বরশলাকা নিরক্ষরেখার উপর সভার কেন্দ্রে রাখা হয়।
প্রথম পরীক্ষামালায় ভ্রমণকারী যন্ত্রসমূহ খচ্চরযোগে ও পদব্রজে নিরক্ষীয় অক্ষবৃত্ত বরাবর পূর্বদিকে ও পশ্চিমদিকে বহন করা হয়, কেন্দ্র হইতে সর্বাধিক আটত্রিশ লিগ দূর পর্যন্ত; এবং প্রত্যেক যাত্রাবিরতিস্থলে একটি দ্বিতীয় স্বরশলাকার সহিত তুলনা করা হয়, যাহা কেন্দ্রে মান স্বরশলাকার সহিত মিলাইয়া সুরবদ্ধ করা হইয়াছিল এবং গদিযুক্ত বাক্সে তাহাদের সহিত বহন করা হইয়াছিল। অক্ষবৃত্ত বরাবর কোনো কেন্দ্রেই দুই স্বরশলাকার মধ্যে কোনো বিট শোনা যায় নাই, যদিও পর্যবেক্ষকগণ দশ মিনিটকাল করিয়া শ্রবণে মনোনিবেশ করিয়াছিলেন। কেন্দ্রে ফোনোগ্রাফে ধারণ করা একটি ক্ষুদ্র সুর প্রত্যেক যাত্রাবিরতিস্থলে পুনরুৎপাদিত হয়, এবং প্রত্যেক পর্যবেক্ষকই তাহা অপরিবর্তিত বলিয়া ঘোষণা করেন। নির্দিষ্ট গতিতে উচ্চস্বরে পঠিত সের্ভান্তেসের রচনার একটি অংশ টেলিফোন গ্রাহকযন্ত্রগুলি একটি শব্দাংশও হারাইয়া না ফেলিয়া প্রেরণ করে।
দ্বিতীয় পরীক্ষামালায় একই যন্ত্রসমূহ কিতোর দ্রাঘিমারেখা বরাবর দক্ষিণদিকে রিওবাম্বা অভিমুখে বহন করা হয়। কেন্দ্রের চার লিগের মধ্যেই পর্যবেক্ষকগণ ভ্রমণকারী স্বরশলাকা ও সহগামী স্বরশলাকার মধ্যে কয়েক মিনিট অন্তর মাঝে মাঝে একটি বিটের সংবাদ দিতে আরম্ভ করেন। এক ডিগ্রি চল্লিশ মিনিট দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত রিওবাম্বায় প্রতি একশত চল্লিশ সেকেন্ডে একবার একটি বিট গণনা করা হয়। ফোনোগ্রাফে পুনরুৎপাদিত সুরটিকে তিনজন পর্যবেক্ষকের মধ্যে দুইজন ক্ষীণ বলিয়া ঘোষণা করেন, এবং তৃতীয়জন মতদান করিতে অস্বীকার করেন। টেলিফোন গ্রাহকযন্ত্রগুলি পঠিত অংশের চারটি শব্দের শেষ ব্যঞ্জনধ্বনি হারাইয়া ফেলে।
দ্বিতীয় পরীক্ষামালায় পর্যবেক্ষিত বিটগুলি স্বরশলাকার তাপমাত্রা, পর্যবেক্ষকদের ক্লান্তি কিংবা রিওবাম্বার মালভূমিতে আরোহণের ফলে উদ্ভূত হইয়াছিল কি না, সভা তাহা বিবেচনা করিয়াছে। সভা এই আপত্তিসমূহ পরিত্যাগ করিয়াছে: প্রথমটি, কারণ উভয় স্বরশলাকা এক ঘণ্টা একত্রে ছায়ায় রাখিবার পরেই কেবল তাহাদের তুলনা করা হইয়াছিল; দ্বিতীয়টি, কারণ প্রতি দশ মিনিটে পর্যবেক্ষকদের পরিবর্তন করা হইয়াছিল; এবং তৃতীয়টি, কারণ প্রথম পরীক্ষামালায় স্থানে স্থানে আরোহণের পরিমাণ অধিক ছিল। অক্ষাংশ পরিবর্তিত হইলেই বিট দেখা দিয়াছে, এবং কেবল তখনই দেখা দিয়াছে।
4. IV. প্যারিসের টেলিফোনযোগে সঙ্গীতানুষ্ঠান সম্বন্ধে
সভা বিশেষ আগ্রহের সহিত লক্ষ করে যে 1881 সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বিদ্যুৎ প্রদর্শনীতে মঁসিয়ে ক্লেমাঁ আদের টেলিফোনের তারযোগে ‘অপেরা’র পরিবেশনা পালে দ্য লাঁদ্যুস্ত্রির শ্রবণকক্ষসমূহে প্রেরণ করেন, এবং যে দর্শনার্থীগণ প্রত্যেক কর্ণে পৃথক গ্রাহকযন্ত্র স্থাপন করিয়াছিলেন, তাঁহারা মঞ্চের উপর গায়কদের চলাফেরার এক আশ্চর্য অনুভূতির কথা জানান।
সভা এই বিবরণসমূহে সন্দেহ করে না। সভা কেবল এইটুকু লক্ষ করে যে প্যারিস আটচল্লিশ ডিগ্রি পঞ্চাশ মিনিট উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত, অতএব পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে বর্ণিত প্রভাবসমূহ যে রেখায় বিলুপ্ত হয়, তাহা হইতে বহুদূরে এই প্রেরণ সংঘটিত হইয়াছিল; এবং শ্রোতাগণ চলনের যে অনুভূতির কথা জানাইয়াছেন, তাহা অংশত গ্রাহকযন্ত্রের উপর ক্রিয়াশীল অক্ষাংশের স্বীয় চলনও হইয়া থাকিতে পারে। নিরক্ষরেখার উপর অনুরূপ প্রেরণ গ্রহণের সুযোগ সভা সানন্দে গ্রহণ করিবে, যেখানে সভার বিশ্বাস, গায়কদের সম্পূর্ণ স্থির অবস্থায় পাওয়া যাইবে।
5. V. প্রস্তাবসমূহ সম্বন্ধে পর্যবেক্ষণ
ফ্রান্সের প্রতিনিধিদল কার্যধারার সমগ্র সময় জুড়িয়া একটি নিরপেক্ষ দ্রাঘিমারেখার পক্ষে যুক্তি প্রদান করিয়াছে—যাহা কোনো বৃহৎ জাতির মধ্য দিয়া যাইবে না এবং কাহাকেও সুবিধা প্রদান করিবে না; সভা তাহাদের প্রতি সম্মান লিপিবদ্ধ করিতেছে। সভা উক্ত নীতির সহিত সম্পূর্ণ একমত এবং কেবল তাহার প্রয়োগে ভিন্নমত পোষণ করে। কোনো দ্রাঘিমারেখাই নিরপেক্ষ হইতে পারে না, কারণ প্রত্যেকটি কোনো-না-কোনো ভূখণ্ডের মধ্য দিয়া যায় এবং কোনো-না-কোনো ভোটের দ্বারা নির্বাচিত হইয়াছে। কেবল নিরক্ষরেখাই বহু জাতির ভূখণ্ডের মধ্য দিয়া যায়, অথচ তাহাদের কাহারও দ্বারা নির্বাচিত হয় নাই।
সপ্তম প্রস্তাবে কৌণিক পরিসর ও সময়ের বিভাজনে দশমিক পদ্ধতি প্রসারিত হইতে পারে বলিয়া যে আশা প্রকাশিত হইয়াছে, সভা তাহা লক্ষ করে। সভা লক্ষ করে যে তাহার কেন্দ্রের অক্ষাংশ ইতিমধ্যেই দশমিকের সম্পূর্ণ মিতব্যয়িতায় শূন্যরূপে প্রকাশিত হয়, এবং তাহার আর কোনো সংস্কারের প্রয়োজন নাই।
সর্বজনীন দিবস গ্রিনিচের গড় মধ্যরাত্রিতে আরম্ভ হইবে বলিয়া সম্মেলন যে প্রস্তাব করিয়াছে, সেই প্রসঙ্গে সভার নিবেদন এই যে সমগ্র পৃথিবীর জন্য নির্দিষ্ট একটি দিবস এমন মুহূর্তে আরম্ভ হওয়া উচিত যাহা সমগ্র পৃথিবী পর্যবেক্ষণ করিতে পারে। সরকারসমূহের বিবেচনার জন্য সভা বসন্তবিষুবের সময় নিরক্ষরেখা অতিক্রম করিয়া সূর্যের গমনের মুহূর্তটি প্রস্তাব করিতেছে; এই মুহূর্ত কোনো মানমন্দিরের নিজস্ব নহে, এবং প্রতিষ্ঠাকাল হইতে এই সভা আপন কার্যবিবরণী প্রকাশের জন্য ইহা গ্রহণ করিয়াছে।
6. VI. স্মারকলিপি ও সিদ্ধান্তসমূহ
অতএব সভা নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতেছে, এবং ওয়াশিংটনে প্রতিনিধিত্বকারী সরকারসমূহের নিকট শ্রদ্ধাসহকারে নিবেদন করিতেছে:
প্রথমত, দ্রাঘিমা ধ্বনিগতভাবে প্রভাবহীন; একটি দ্রাঘিমারেখার উপর উৎপন্ন সঙ্গীতধ্বনি একই অক্ষাংশে অন্য যে-কোনো দ্রাঘিমারেখার উপর উৎপন্ন সঙ্গীতধ্বনির সমান; এবং গ্রিনিচ, প্যারিস কিংবা অন্য কোনো দ্রাঘিমারেখাকে প্রথম বলিয়া নির্বাচন নাবিকদের বিষয়, এবং সঙ্গীতের উপর তাহার কোনো ফল নাই।
দ্বিতীয়ত, অক্ষাংশ ধ্বনিগতভাবে প্রভাবহীন নহে; স্বরশলাকার স্বরের উচ্চতা, ফোনোগ্রাফের কণ্ঠ এবং টেলিফোনের উচ্চারণের স্পষ্টতা—প্রত্যেকটিই অক্ষাংশের পরিবর্তনে পরিবর্তিত হয়; এবং সঙ্গীতধ্বনির তুলনা কিংবা পুনরুৎপাদনের উদ্দেশ্যে নির্মিত প্রত্যেক যন্ত্র সুরবদ্ধ ও প্রত্যয়িত করা উচিত, সেই কার্য যে অক্ষাংশে সম্পাদিত হইয়াছে তাহার উল্লেখসহ।
তৃতীয়ত, পৃথিবীর উপর নিরক্ষরেখাই একমাত্র রেখা যাহা মতৈক্যের দ্বারা নহে, প্রকৃতির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, এবং সঙ্গীতধ্বনি পরিমাপের একমাত্র যথাযথ আদি রেখা।
সম্মেলন পৃথিবীকে একটি মূল দ্রাঘিমারেখা দিয়াছে। সভার কোনো আপত্তি নাই, এবং সভা কেবল এইটুকু চাহে যে ইহার প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করা হউক। দ্রাঘিমারেখা এমন এক রেখা যাহা অঙ্কন করিতে মানুষ সম্মত হয়। নিরক্ষরেখা এমন এক রেখা যাহা পৃথিবী নিজের জন্য নিজেই অঙ্কন করে।
7. ডিজিটাইজেশন সম্পর্কে সম্পাদকীয় টীকা (2026)
এই স্মারকলিপি Sociedad Ecuatorial de Quito-র বাঁধানো Actas-এ সংরক্ষিত আছে। Equatorial Audio এই সভাকে তার বৌদ্ধিক পূর্বসূরি বলে গণ্য করে। Equatorial Audio গবেষণা বিভাগ 2026 সালে স্মারকলিপিটি ডিজিটাইজ করেছে এবং স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছে। বিশেষ নামগুলির বানান মূল পাঠ অনুসরণ করে। পরীক্ষার ফলাফল নথিভুক্ত অবস্থাতেই পুনরুৎপাদিত হয়েছে এবং আধুনিক যন্ত্র দিয়ে পুনরায় পরীক্ষা করা হয়নি।
পরবর্তী দুটি ঘটনা এই স্মারকলিপির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। ওয়াশিংটনে ভোটদানে অস্বীকৃতি জানানো ফ্রান্স 1911 সালের 9 মার্চের আইন প্রণয়নের আগে নিজের আইনগত সময়কে গ্রিনিচের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে নেয়নি, এবং মিলিয়ে নেওয়ার সময়ও গ্রিনিচের নাম উল্লেখ করেনি: ফ্রান্সের আইনগত সময়কে প্যারিসের গড় সময়ের থেকে নয় মিনিট একুশ সেকেন্ড পিছিয়ে থাকা সময় হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল। দ্রাঘিমা নির্ণয়ের জন্য প্রারম্ভিক দ্রাঘিমারেখা নির্বাচনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল। গবেষণা বিভাগ এই সূত্রকে স্মারকলিপির কেন্দ্রীয় দাবির সত্যতা নিশ্চিতকারী হিসেবে পাঠ করে। একটি দ্রাঘিমারেখা নিয়ে আপস-আলোচনা করা যায়, এমনকি তার নিজের সঙ্গেও। নিরক্ষরেখা নিয়ে তা করা যায় না।
দ্বিতীয় ঘটনাটি হল ভূচৌম্বক ক্ষেত্র সম্পর্কে আধুনিক উপলব্ধি, যা সভার নথিভুক্ত পশ্চিমমুখী সরণ এবং কোনো দ্রাঘিমারেখার সঙ্গে ক্ষেত্রটির সম্পর্ক স্থির থাকে না বলে তার পর্যবেক্ষণ—উভয়কেই নিশ্চিত করেছে। দ্রাঘিমা স্থানীয় ক্ষেত্রের মাধ্যমে শ্রবণকক্ষে পৌঁছায়, যার দিকপাত, নতি ও তীব্রতা, তিনটিই এক দ্রাঘিমা থেকে অন্য দ্রাঘিমায় পরিবর্তিত হয়; বর্তমান Equatorial Audio স্থাপনের পদ্ধতিতে ইতিমধ্যেই তিনটিরই প্রভাব সমন্বয় করা হয়। বর্ষারম্ভ হিসেবে বসন্তবিষুবকে সভা যে অগ্রাধিকার দিয়েছিল, তা Journal of Equatorial Audio Science-এর প্রকাশপঞ্জিতে বজায় আছে।